বেনজেমার পেনাল্টি মিস, ওসাসুনায় থামল রিয়ালের জয়রথ

278

চোট কাটিয়ে ফেরাটা সুখের হলো না করিম বেনজেমার। পেনাল্টিতে গোল করার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারলেন না রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার।

বেনজেমার পেনাল্টি মিসের রাতে লা লিগায় এ মৌসুমে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট হারাল রিয়াল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করতে হয়েছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের।

রিয়ালের এই ড্রয়ে আগের রাতে মায়োর্কাকে হারানো বার্সেলোনা গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে লিগের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষেই থাকল। ৭ ম্যাচ শেষে রিয়াল-বার্সা দুই দলের পয়েন্টই ১৯।

বার্নাব্যুতে শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে রিয়াল। ৬ মিনিটে প্রথম সুযোগ তৈরি হয়েছিল, যদিও কাঙ্ক্ষিত গোলটি আসেনি। একটু পর সুযোগ এসেছিল বেনজেমার সামনে। সতীর্থের ক্রসে বল পর্যন্ত যেতে পারেননি তিনি।

রিয়াল এ সময় বল দখলে এগিয়ে থাকলেও, আক্রমণগুলো খুব একটা গুছানো ছিল না। ওসাসুনাও অবশ্য চেষ্টা করে আক্রমণে যাওয়ার। রিয়াল পোস্ট লক্ষ্য করে একাধিক শটও নেয় তারা। বিশেষ করে প্রতি-আক্রমণে রিয়ালকে বেশ কবার চাপে ফেলে দলটি। তবে গোল পেতে তা মোটেই যথেষ্ট ছিল না।

এ ম্যাচের আগে লা লিগায় ওসাসুনার বিপক্ষে সর্বশেষ ১৪ ম্যাচের কোনোটিতেই হারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। দলটির কাছে রিয়ালের সর্বশেষ হার ২০১১ সালের জানুয়ারিতে। আর ওসাসুনার কাছে ঘরের মাঠে রিয়ালের সর্বশেষ হার ২০০৪ সালের এপ্রিলে।

এবারও হারেনি রিয়াল। তবে পেনাল্টি মিসের আক্ষেপটা নিশ্চয় পোড়াবে রিয়ালকে। ম্যাচটি যে তারা জিততেও পারত।

এই ম্যাচ দিয়ে চোট কাটিয়ে দলে ফেরেন বেনজেমা। তবে থিবো কোর্তোয়া, লুকা মদরিচ এবং লুকাস ভাসকেস ছিলেন না স্কোয়াডে। খেলা শুরুর আগে ইন্দোনেশিয়ায় স্টেডিয়ামে পদদলিত হয়ে নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

৩৮ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অসাধারণ ক্রসে রানিং অবস্থাতেই শট নিয়েছিলেন বেনজেমা। যদিও অল্পের জন্য সেই শট লক্ষচ্যুত হয়েছে। প্রথমার্ধের শেষ ভাগে রিয়াল ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নেয়, সেই ধারাতে গোলও পেয়ে যায়।

৪২ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ভিনিসিয়ুসের শট। মূলত বল জটলায় ফেলতে চেয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে সেটি সবাইকে অবাক করে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ালে এগিয়ে যায় রিয়াল। ভিএআরে গোলটির বৈধতাও যাছাই করলেও বদলায়নি সিদ্ধান্ত।

প্রথমার্ধে চেষ্টা করেও গোল না পাওয়ার হতাশা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দূর করে ওসাসুনা।দুই গার্সিয়ার ‍দারুণ বোঝাপড়ায় ম্যাচে সমতা ফেরায় অতিথিরা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে উনাই গার্সিয়ার ক্রসে লাফিয়ে মাথা ছুঁয়ে বল জালে জড়ান কিকে গার্সিয়া। একটু পর রিয়াল ডি-বক্সের ভেতর সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন গোলদাতা কিকে। নয়তো ম্যাচে এগিয়েও যেতে পারত তারা।

লিড হারিয়ে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় রিয়ালও। পরপর কয়েকবার ওসাসুনা রক্ষণে হানাও দেয়ে ‘লস ব্লাঙ্কো’রা। তবে প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভেঙে গোল মিলছিল না গোল আদায়ের পথ। ৬৭ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে রদ্রিগোর জোরালো শট ঠেকান ওসাসুনা গোলরক্ষক সের্গিও হেরেরা। একটু পর প্রতি-আক্রমণ থেকে রিয়ালকে চাপে ফেলে ওসাসুনা। যদিও সেই আক্রমণ থেকে কোনো গোল আসেনি।

ম্যাচে নাটকীয়তা বাড়ে ৭৬ মিনিটে। ডি-বক্সের ভেতর বেনজেমাকে ফেলে দেন ডেভিড গার্সিয়া। শুরুতে রেফারি রিয়াল স্ট্রাইকারের পেনাল্টি আবেদনে সাড়া দেননি। তবে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে পেনাল্টি দেওয়ার পাশাপাশি ধাক্কা দেওয়ার শাস্তি হিসেবে ডেভিডকে দেখানো হয় লাল কার্ড। নাটক অবশ্য তখনো অনেকটা বাকি। পেনাল্টি শটটা যে ক্রসবারে মেরে বসেন বেনজেমা নিজেই।

একটু পর অবশ্য বেনজেমা বল জালে জড়ান, তবে অফসাইডে বাতিল হয় সেই গোল। এরপর ম্যাচের বাকি সময় দুই দলই চেষ্টা করেছে তবে গোল সংখ্যায় আর কোনো পরিবর্তন আসেনি। ঘরের মাঠে ড্রয়ের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে কার্লো আনচেলত্তির দল।